ঈমানের গায়রত ও সেক্যুলার শিক্ষা প্রসঙ্গ

মুহাম্মদ আফসার

—————

ইমাম বায়হাকী রহ. তাঁর শুআ’বুল ঈমানে- ঈমানের যে সাতাত্তরটি শাখা সংকলন করেছেন তার অন্যতম একটি হচ্ছে الغيرة وترك المذاء। এর সাধারণ অর্থ হচ্ছে; সংবেদনশীলতা ও নির্জীব না হওয়া। দ্বীন, ঈমান ও আকাঈদের ক্ষেত্রে সংবেদনশীলতা এটি ঈমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা। প্রত্যেক ঐ ব্যক্তি যে কোন না কোন বিশ্বাস ও আদর্শ লালন করে; সে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সংবেদনশীল হবে এটাই আদর্শ ও বিশ্বাসের স্বাভাবিক দাবি।

কথার খাতিরে যদি আপনি কোন ঈমানদার ব্যক্তিকে বলেন; “মনে করো তুমি একজন কাফির”। এই যে উদারহণ স্বরূপ কাফিরের দিকে তাকে সম্মন্ধ করলেন; এটি একজন মুমিন কখনই মেনে নিতে পারবে না। অথচ আপনি জানেন এবং সেও জানে এতে তার ঈমানের বিন্দুমাত্র ক্ষতি হচ্ছেনা। কিন্তু একজন মুমিন উদাহরণত নিজেকে কাফির ভাবতেও কষ্ট পায়। এই কষ্টের কোন প্রতিক নাই। বাহ্যত কোন ক্ষতিও নেই। তারপরো আত্মপরিচয়ের জায়গা থেকে সংবেদনশীল থাকা এটাই ঈমানের গায়রত ঈমানের একটি শাখা।

এর আরেকটি দিক হচ্ছে; নির্বিকার না থাকা। ধরুন কেউ আপনার সামনেই আপনার স্ত্রীকে বললো; “ভাবি! আপনার ঠোঁটগুলো অনেক সুন্দর, ঠিক দেখতে জনৈক হলিউড নায়িকার ঠোঁটের মতো”। প্রশ্ন হচ্ছে এ কথা শুনার পর আপনি কী করবেন?। আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন যে, আল্লাহ আপনাকে হলিউডের নায়িকার ঠোঁটের মতো ঠোঁট সমৃদ্ধ একজন স্ত্রী দান করেছেন। সুতরাং বলবেন- আলহামদুলিল্লাহ!। কিন্তু বিষয়টা কী ঠিক এরকম? নাকি আপনি ঐ ব্যক্তির উপর ক্ষোভ প্রকাশ করবেন ও ক্ষেপে যাবেন। নিশ্চিত ক্ষেপবেন। আচ্ছা ঐ ব্যক্তির কথায় বাহ্যত আপনার কী ক্ষতি হয়েছে?। কিছুই হয়নি। তারপরো এখানে ভিন্ন একটা চেতনা আপনার মাঝে কাজ করেছে। এই চেতনাই ঈমানের গায়রত। যার এই গায়রত নাই তার ঈমানের একটা গরুত্বপূর্ণ শাখাই খসে পড়ে গেল।

ইমাম বুখারী রহ. সহীহ বুখারীতে “কিতাবুন নিকাহে” একটি অধ্যায় এনেছেন; “বাবুল গায়রাহ”। সেখানে একটা প্রসিদ্ধ হাদীস আছে-

একবার সা’য়াদ ইবনু উবাদা রাযি. সাহাবীদের বললেন; আমি যদি কাউকে আমার স্ত্রীর সাথে দেখি; আমার ইচ্ছে হয় তরবারি দিয়ে তার গর্দান উড়িয়ে দেই। সাহাবীগণ তাঁর এই সংবেদনশীলতা দেখে অবাক হলেন এবং এ খবর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে পৌঁছালেন।কিন্তু দেখা গেলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাহাবীদের অবাক হওয়ার উপর অবাক হলেন; প্রশ্ন করলেন,
أتعجبون من غيرة سعد لأنا أغير منه والله أغير مني
“তোমরা সা’য়াদের সংবেদনশীলতা দেখে অবাক হচ্ছো? আমিতো তার চেয়েও বেশি সংবেদনশীল। আর আল্লাহ! তিনি আমাদের চেয়েও আরো অধীক সংবেদনশীল”।

কুরআন, হাদীস, ফিকহ খুঁজলে কোথায়ও এই বিধান পাওয়া যাবে না যে, কেউ তার স্ত্রীর সাথে অন্য পুরুষকে দেখলে সে যেন তাকে হত্যা করে ফেলে। এবং সায়া’দ রাযি. যদি সত্যিই কোন গভীর অপরাধের স্বাক্ষপ্রমাণ ও শরয়ী বিচারিক সিদ্ধান্তের বাইরে এমনটি করে ফেলেন; তাহলে রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আদালত তাঁরও বিচার করবে। তারপরো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সা’য়াদের এই গাইরতকে পশ্রয় দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, বলেছেন আমি এর চেয়েও অধীক সংবেদনশীল। এটা ঈমানদারের আত্মমর্যাদা। ঈমানের একটা স্বাভাবিক চাহিদা।

কিন্তু প্রচলিত সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা, জাহিল লোকদের সাথে অধীক মেলামেশা, শরীয়তের ছোটখাট কোন বিষয় নিয়েও নিয়মিত ঠাট্টা মশকরা করা হয় এমন স্থান ও এ জাতীয় বন্ধুদের সাথে অধীক সম্পর্ক এবং আধুনিক জাহিলিয়্যাতের মানদন্ডে উত্তীর্ণ চলমান রাজনীতি ও চলমান যু্িক্ততর্কগুলো মুমিনের ঈমানের গায়রত ধ্বংস করে দেয়। কোন একটা কাজ দ্বীনি মানদন্ডে বৈধ না অবৈধ বা জায়েজ না নাজায়েজ এই প্রসঙ্গকে খুবই হালকা করে দেখায়। চাই তা হারাম হোক অথবা সাধারণ কোন মাকরুহ-ই হোক।

কুরআনুল কারীম এই জাতীয় পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে নির্দেশ দিয়েছে। ইরশাদ হচ্ছে-
وَإِذَا رَأَيْتَ الَّذِينَ يَخُوضُونَ فِي آيَاتِنَا فَأَعْرِضْ عَنْهُمْ حَتَّىٰ يَخُوضُوا فِي حَدِيثٍ غَيْرِهِ ۚ وَإِمَّا يُنسِيَنَّكَ الشَّيْطَانُ فَلَا تَقْعُدْ بَعْدَ الذِّكْرَىٰ مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ.

“আর যখন তুমি তাদেরকে দেখ, যারা আমার আয়াত সমূহের ব্যাপারে উপহাসমূলক সমালোচনায় রত আছে, তুমি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, যতক্ষণ না তারা অন্য কথাবার্তায় লিপ্ত হয়। আর যদি শয়তান তোমাকে ভুলিয়ে দেয়, তবে স্মরণের পর যালিম সম্প্রদায়ের সাথে বসো না।” (আনআম-৬৫)

আয়াতটি একটি সামগ্রিক মূলনীতি। যে সব জায়গা, অবস্থান, ও শিক্ষা ব্যবস্থা আল্লাহর এই দ্বীনের সাথে চিন্তা ও আমলের দিক থেকে উপহাস করে; শিরকের প্রতি উৎসাহ যোগায় তা থেকে দূরে থাকতে মুমিনদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ এই ধরণের পরিবেশ মানুষের চিন্তা ও কর্মের যে বিবর্তন তৈরি করে দেয় তা সে ঘুনোক্ষরেও টের পায়না। ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন “কোন মানুষের জন্য এই বেহাল অবস্থা মৃত্যুর চেয়েও কঠিন”।

একজন আলেমের কথা বলি। মফস্বলে থাকেন। সন্তানের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এলেন। সপ্তাহ খানেক থাকলেন প্রাইভেট ভার্সিটি এলাকায়। যতবারই বের হলেন; কিছুনা কিছু অশ্লিল দৃশ্য চোখে পড়েছে। ছেলে মেয়েরা কীভাবে তাদের জাস্ট ফ্রেন্ডদের সাথে গলাগলি করে এসব সেখানে নিত্যই দেখা যায়। ছেলে সুস্থ্য হবার পর চলে এলেন গ্রামে। বাস থেকে নেমে গ্রামের সাব রাস্তায় স্ত্রী-সন্তানকে তুলে দিলেন এমন সিএনজিতে, যেখানে রয়েছে আরো চারজন পুরুষ । তিনি একবারও ভাবলেন না, তার স্ত্রী কীভাবে এ মানুষগুলোর সাথে ঘেঁষাঘেঁষি করে বসবে। স্ত্রী বেচারা নিজেই হতবাক। বুঝে উঠার আগেই গাঁড়ি ছেড়ে দিয়েছে। দিনভর কিছুই খেতে পারেননি। রাতে যখন মৌলভি বাসায় ফিরলেন; নিজেদের মধ্যেই ঘটে গেল তুমুলকান্ড। দশ বছরের সংসার জীবনে এটাই একমাত্র ঝামেলা যা মনে হলে আজো নাকি বেচারা শিউরে উঠেন। তিনি আমাকে পরে জানালেন যে,ভার্সিটির ছেলেমেয়েদের তাৎক্ষনিক এসব অনৈতিক দৃশ্য (যদিও তিনি নিজের চোখ হেফাজত করার চেষ্টা করছেন) কিছু সময়ের জন্য তার ঈমানের গায়রত ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে তিনি স্ত্রীকে অন্য পুরুষের সাথে গাড়ীতে তুলে দিচ্ছেন; অথচ বিষয়টা তার কাছে তখন স্বাভাবিক মনে হচ্ছিলো।

আমাদের এমন অনেক পরিচিত ভাই আছেন; ইউনিভার্সিটি লেভেলে যাদের এমন অনেক বন্ধু আছে যারা ইসলামের শিআ’র নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। অহেতুক বিতর্ক করে এবং ইসলামের ওমুক ওমুক বিধান কেন মানবিক নয় তা প্রমাণের চেষ্টা করে। কিন্তু তা তাদের ঈমানী গায়রতে লাগে না। না তারা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে তাদের কাছে সঠিক আদর্শ তুলে ধরার প্রয়াস পান, আর না তারা তাদের থেকে নিজেদের আলাদা করে নেন। যদিও তারা ঐসব পরিবেশে পড়ে থাকবার কারণ হিসেবে সুযোগ পেলে ইসলামকে তুলে ধরবেন এমন একটা প্রতিজ্ঞার কথা হর হামেশাই প্রকাশ করতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে একটা পর্যায়ে তাদের নিজিদের মাঝেই ইসলামের বিধি বিধান নিয়ে এক ধরণের হীনমন্যতা তৈরী হয়। যে হীনমন্যতাকে তারাই আবার আধুনিকতা ও প্রগতিশীলতার নামে সংজ্ঞায়ন করে।

এমনও অনেককে দেখেছি যারা নিজেদের এই গায়রতহীনতাকে উল্টো জাস্টিফাই করেন। তারা বলেন; ইসলাম কী এতই ঠকুনো? কিছু একটা বললেই কী প্রতিবাদ করতে হবে?। রাসুলকে গালি দিয়েছে তো কী হয়েছে? এতে কী রাসুলের মান সম্মান কমে গেছে? রাসুলের রেসালাত কী ফুটো হয়ে গেছে?। তারা এর প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে না পারুক, কুরআনুল কারীমের নির্দেশ অনুসারে অন্তত সে সব ব্যাক্তি ও প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ব্যবস্থাতো বর্জন করতে পারতো, যেখানে এই দ্বীনে হানিফের কোন বিধান নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করা হয়।

“ঈমানের গায়রত” এটা প্রচলিত অর্থে ফিকহি বা ধারণাগত কোন বিষয় নয়। এটি সরাসরি মানসূস আলাইহি বিষয়।হাদীসের কিতাবে এই শিরোনামেই অধ্যায় আছে। কুরআনুল কারীমে ইরশাদ হয়েছে; وَالَّذِينَ آمَنُوا أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ “আর যারা ঈমান এনেছে, তার আল্লাহর জন্য ভালবাসায় দৃঢ়তর” (বাকারা- ১৬৫) “আশিদ্দা” শব্দটার মাঝে কঠোর পর্যায়ের ভালোবাসার কথা আছে। আর ভালোবাসায় দৃঢ়তর এর নানা দিক আছে। এর মধ্যে এটাও একটা বিষয় যে, বান্দা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘণ করবে না। যদিও তা খুবই হালকা বিষয়ই হয়।

আজকাল মানুষ দ্বীনকে এভাবে খেয়াল করেনা। প্রত্যেকটি বিষয়ে সরাসরি আদেশ-নিষেধ সূচক নুসুস কামনা করে। মানুষ প্রশ্ন করে- কুরআনে কোথায় বলা আছে সেক্যুলার শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়া যাবে না। কোথায় বলা আছে ক্রিকেট হারাম, বয়ফ্রেন্ড গার্ল ফ্রেন্ড রাখা যাবে না?। মানুষ মনে করে সরাসরি ঘোষিত হারামের বাইরে শরীয়াতে আর কোন বিধান নাই। দ্বীনের বড়বড় বিধানকে তুচ্ছজ্ঞান করার জন্য এটা হচ্ছে প্রাথমিক স্তর। আমি বলছিনা শরীয়াতের যে কোন সাধারণ নিষিদ্ধ বিষয়কেও হারাম ফাতওয়া দিতে হবে। বরং আমি বলছি বিষয়টি ইলমি মুবাহ পর্যায়ে রেখেও একজন মুমিনকে ঈমানের গায়রতের তাকাযা পুরণ করতে হবে। এটিই বান্দার জন্য আল্লাহর সাথে সম্পর্কের দাবি।

আমি কওমী মাদরাসার ইবতেদায়ী পড়েছি মেখল মাদরাসার নিয়মে প্রতিষ্ঠিত একটি মাদরাসায়। মুহতামিম ছিলেন; সরাসরি মুফতি আজম ফয়জুল্লাহ রহ. এর ছাত্র । সুন্নাত ও বিদআতের প্রশ্নে তাদের সংবেদশীলতা আমার জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একবার ইশার নামাযের পর মাদরাসার পাশে, চা দোকানে ক্রিকেট খেলা দেখছিলাম। বিপক্ষীয় উইকেট পড়ার পর, আমরা সমস্বরে একটা ধ্বনি দিলাম সাধারণত যেভাবে হোহো করে ধ্বনি দেয়া হয়। মুহতামিম সাহেব পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এই দৃশ্য দেখে গেলেন। মাদরাসা থেকে দুজন ছাত্র পাঠালেন আমাকে যেন ধরে নেয়া হয়। তারা আমাকে নিয়ে হযরতের সামনে উপস্থিত করলো। হযরত অগ্নিশর্মা। রাগে কথা বলতে পারছেন না। আগে কালিমা শাহাদাত ও ইস্তেগফার পড়ালেন। বললেন; এই যে তোমরা আওয়াজ করলে; এটা আমার কাছে শুনতে উলুধ্বনির মতো লেগেছে। আর কখনো এমন কবে না।

আমি জানি ক্রিকেট খেলা দেখলে ঈমান যায় না। উইকেট পতনের এই ধ্বনি উলুধ্বনি নয়। এটা আমার হযরতও জানতেন। কিন্তু সেদিন কালিমা শাহাদাত পড়ানোর পর মনো হলো; সত্যিই বুঝি ঈমানের স্বাদ পেলাম। সেই ঘটনা আজ অবধি মনের গহীনে রেখাপাত করে। জীবনে বহুবার পাহাড় শৃঙ্গ বিজয়ের পর নানা শব্দে বন্ধুরা ধ্বনি দিয়েছে। আমি দেইনি। এই জাহেলী জীবনেও সেই ঘটনা বার বার স্বপ্নের মতো এসে হাজির হয়।

কোন মানুষ ফিতনায় আক্রান্ত হলে, সবার আগে তার ঈমানের গায়রত নষ্ট হয়ে যায়। গায়রত হচ্ছে বার্তা সিগনালের মতো। শুরুতেই মস্তিস্কে বার্তা দেয়। গায়রত নষ্ট হয়ে গেলে মানুষ কোথাও কোন সমস্যা দেখেনা। তখন মানুষের কাছে ক্রিকেট, সিনেমা, লাইফ স্টাইল, দামি দামি খাবার ও দামি দামি ব্র্যান্ডের পোষাক, বঙ্কিম, রবিন্দ্রনাথ ও শেক্সপিয়র ছাড়া বাকী সব আলাপ ভাষাভাষা লাগে। এ জাতীয় লোক সিনেমা দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারে না। কিন্তু কুরআন পড়তে দিলে বেশীদূর যেতে পারে না। আবার ইসলাম প্রশ্নে বড়বড় ত্বাত্বিক জ্ঞান দেয়। কিন্তু, সালাত, সিয়াম পবিত্রতার কথা বললে হা করে তাকিয়ে থাকে। যেন জিনে ধরেছে।

এর জন্য অনেকটা দায়ী নৈতিকতা বিহীন প্রচলিত সেক্যুলার শিক্ষা ব্যবস্থা। প্রচলিত ফ্রি মিস্কিং স্যাকুলার শিক্ষা ব্যবস্থা আড়াগোড়াই ঈমান বিধ্বংসি। কীভাবে? সেটা বুঝতেও ঈমানের গায়রত থাকা লাগবে। সিস্টেমের ভেতর ঢুকে সিস্টেম বদলাতে গিয়ে এতোদিনে যার ঈমান ও কুফরের ব্যবধানের জায়গাটা ঝাপসা হয়ে গেছে, তিনি অল্পকথায় এটা বুঝার কথা না।তার কাছে শিক্ষার অহংবোধ আছে। কিন্তু ওহীর ইলম নাই। ওহীর ইলম শব্দগত জ্ঞানকে বলে না। ভাবাদর্শগত জীবন ধারণাকে বলে। সে তা থেকে বঞ্চিত। ফলে সে একই সাথে শিক্ষিত, অংহকারী, আবার দ্বীন বুঝার প্রশ্নে দীনতায় জরাগ্রস্ত। সে বুদ্ধিদীপ্ত যুক্তিবাদী, কিন্তু একজন মানুষ কেন সার্বক্ষনিক আল্লাহর নি:শর্ত আনুগত্য করতে বাধ্য এই যুক্তি বুঝতে অক্ষম, বধির।

কাজেই আমাদের মেয়েরা প্রচলিত ফ্রি মিস্কিং সেক্যুলার শিক্ষায় ক্লাস ফোর, ফাইভের উপরে পড়বে কী না এটা এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন নয়। এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হচ্ছে মেয়ে হোক বা ছেলে, যদি মুমিন হয়, তবে সে অসচেতনভাবে এমন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেবে কী না, যা তাকে গলাটিপে তার সৃষ্টির লক্ষ-উদ্দেশ্য ভুলিয়ে কেবল ভোগবাদী ব্যবস্থার একজন উৎপাদক হিসেবে তৈরি করে। প্রমোট করে এমন জীবন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে যেখানে উপকরণ সংগ্রহ ও জীবনকে সুখি করাকে মানব জীবনের উন্নততা ও অধপতনতার মাপকাঠি ধরা হয়। যে শিক্ষা ব্যবস্থা সমস্ত মানবীয় মূল্যবোধ ধ্বংস করে এক নতুন ধারার আদর্শ তুলে ধরে, যেখানে নৈতিকতার কোন স্থির মানদণ্ড নেই, নেই জীবনের মাকাসিদের সঠিক দিক দর্শন, এমনকি বেসিক্যালি আল্লাহর তাওহীদ শিক্ষাটাও নেই, সেই শিক্ষা ও তার ব্যবস্থাপনার কোলে একজন মুমিন নিজেকে সঁপে দেবে কী না? দিলে কিভাবে, কতটুকু তার বোঝাপড়া দরকার।

একই সাথে স্যাকুলার শিক্ষায় উচ্চমাত্রার শিক্ষিত হয়েও তথাপি ন্যুনতম মুসলিম হিসেবে পরিচিত থাকার যে ধারাটি এখনো চোখে পড়ছে তার পেছনে অবদান কার সেটাও খেয়াল করা দরকার। বিগত দু’শ বছর ধরে এই অঞ্চলের আলিমরা ঐ দু:সাহসিক জীবন যাত্রার ঝুঁকি না নিলে যেখানে মাত্র তিন-চার হাজার টাকায়, পাঁচ-ছয় জনের একটি সংসারের মাস চলে যেতে পারে, পুরো ব্যবস্থাটাই তছনছ হয়ে যেতো। আলিমরা নানা কায়দায় মুসলিম জনসমষ্টিগত পরিবেশ এবং ইসলামের কাছে দায়বদ্ধ এমন পারিবারিক সিস্টেম টিকিয়ে রাখতে চেষ্টা না চালালে এই সেক্যুলার শিক্ষা মানুষকে কোথায় নিয়ে যেতো তা ভাবলেও শিউরে উঠি। খুব বেশি দিন না, মাত্র পাঁচ বছর এ দেশের মাদরাসা মসজিদ ও দ্বীনি দাওয়াতি কর্মসূচিগুলো বন্ধ করে দিয়ে আলিমরা পুজিবাদী কারখানামুখি হলে মুসলিম ঘরগুলো থেকে কী মানের প্রজন্ম তৈরী হতে পারে বিগত বছরগুলোতে আমরা কিছুটা হলেও তা আছঁ করতে পেরেছি। যুগ সচেতনদের তা চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না।

কাজেই প্রচলিত শিক্ষা ও নারী শিক্ষা নিয়ে কেউ কথা বললে, স্যাকুলারদের সুরে হই হই রব তুলবার আগে নিজের ঈমানি গায়রতের জায়গা থেকে একটু চিন্তা করা প্রয়োজন। আজ সমাজের রন্দ্রে রন্দ্রে যে নাস্তিকতার বুনন হচ্ছে তার উৎস কোথায় সে দিকে একটু দৃষ্টি দেয়া সময়ে দাবি। ঈমানী গায়রত যদি না থাকে তবে তা কীভাবে অর্জন করতে হয় সেই দিক্ষা নিন। টুপি,পাঞ্চাবী পরে, আলিম ওলামার বেশ ধরে নাস্তিকতাবাদে সহযোগি হয়ে উঠবার আগে একটু চিন্তা করুন আল্লাহর কাছে কী জবাব দেবেন।আল্লাহ সকলের সহায় হোন।

মুল লেখা এখানে

Please follow and like us: