কিয়ামতের নিদর্শন সমূহ

পর্ব-১
ব্যাপক লেখালেখি ও কলামিষ্টদের ছড়াছড়ি আগের যুগে লেখালেখি এবং প্রচার মাধ্যম এত ব্যাপক ছিলনা । একটি গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কত কষ্ট , কত দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হত। কিন্তু এখন…! প্রেক্ষাপট কত বদলে গেছে ! অধিক লেখালেখি , বই-পুস্তক প্রকাশ এবং কলামিষ্টদের আধিক্যকে নবী করীম সা. কেয়ামতের নিদর্শনরুপে চিহ্নিত করেছেন। ইবনে মাসউদ রা. থেকে বর্ণিত , নবী করীম সা. বলেন, ” কেয়ামতের পূর্বমুহুর্তে নিম্নোক্ত বিষয়াবলী অধিক হারে ঘটতে থাকবে ১। ব্যক্তি বিশেষ সালাম প্রদান ২। ব্যাপক ব্যাবসা বাণিজ্য । এমনকি স্ত্রীও ব্যাবসায় স্বামীকে সাহায্য করবে। ৩। আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্নকরন ৪। মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদান ৫। সত্য স্বাক্ষ্য গোপন ৬। কলম প্রকাশ (মুসনাদে আহমদ-৩৮৭০) “কলম প্রকাশ” বলতে সম্ভবত লেখালেখি এবং অধিক হারে বই পুস্তক প্রকাশের কথা ইংগিত করেছেন। প্রকাশনা এবং ছাপানোর জন্য অত্যাধুনিক মেশিন আবিষ্কার ও মাধ্যম সহজ হওয়ার ফলে যে কেউ চাইলেই পুস্তক প্রকাশ করতে পারবে। এতকিছুর পরও দ্বীনি এবং ইসলামী শিক্ষায় মানুষের মধ্যে মূর্খত প্রকাশ পাবে।
পর্ব-২ নির্বোধ ব্যক্তিদের নেতৃত্ব কথায় আছে- নেতৃত্ব ঠিক থাকলে জনগণ ঠিক-। নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়লে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা হুমকির মুখে পড়ে। কোরআন-হাদিসে অবজ্ঞা প্রদর্শনকারী নির্বোধ ব্যক্তিদের -নেতৃত্বে আগমনকে নবী করীম সা. কেয়ামতের নিদর্শন বলে চিহ্নিত করেছেন। জাবের বিন আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, একদা -কা’ব বিন উজরা রা.কে উদ্দেশ্য করে নবী করীম সা. বলতে লাগলেন- “নির্বোধ ব্যক্তিদের নেতৃত্ব থেকে আল্লাহ পাক তোমাকে বাঁচিয়ে রাখুন!” নির্বোধের নেতৃত্ব কি? -জিজ্ঞেস করা হলে নবীজী বললেন- “আমার পর এমন সব নেতা-নেত্রীদের আগমন হবে, যারা আমার আদর্শকে অবহেলা করবে। প্রচুর মিথ্যা কথা বলবে। সুতরাং যারা-ই মিথ্যুকদেরকে সত্য বলে বিশ্বাস করবে, অপরাধ-দুর্নীতিতে তাদেরকে সহায়তা করবে, অবশ্যই তারা আমার উম্মতের অন্তর্ভুক্ত নয়। আমি তাদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। হাউজে কাউসারে -তারা আমার ধারে-কাছেও আসতে পারবে না। পক্ষান্তরে যারা মিথ্যুকদেরকে সত্যায়ন করেনি, অপরাধ-দুর্নীতিতে সহায়তা করেনি, তারাই আমার উম্মত। আমি তাদের পক্ষে থাকব। হাউজে কাউসারে তারা আমার কাছে আসবে। ওহে কা’ব বিন উজরা..! (জেনে রেখো!) রোযা হচ্ছে ঢাল, সাদাকা -পাপকে ধুয়ে দেয় এবং নামায হচ্ছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের শ্রেষ্ঠ উপায়। ওহে কা’ব বিন উজরা..! (জেনে রেখো!) অবৈধ উপার্জনে ক্রিত খাদ্যে যে মাংস শরীরে বেড়ে উঠল, তা কখনো-ই জান্নাতে প্রবেশ করবে না; বরং জাহান্নামের আগুনই তার জন্য অধিক মানানসই। ওহে কা’ব.! মানুষ প্রতিদিন (কর্ম শেষে) প্রত্যাগমন করে, কেউ নিজেকে বিক্রি করে দিয়ে আসে, কেউ (নিজেকে জাহান্নাম থেকে) মুক্ত করে আসে।-” (মুসনাদে আহমদ, মুসনাদে বাযযার) অপর হাদিসে- “কেয়ামত সংঘটিত হবে না, যতক্ষণ না প্রত্যেক জাতিকে মুনাফেক-রা নেতৃত্ব দেবে।-” এখানে মুনাফিক বলতে যাদের অন্তরে খোদাভীতি বলতে কিছু নেই, দুর্বল ঈমান, প্রচণ্ড মিথ্যাবাদী এবং গণ্ডমূর্খ লোক উদ্দেশ্য। এ রকম নির্বোধ গণ্ডমূর্খ ব্যক্তিরা -নেতৃত্বে আসার ফলে সমাজের আমূল বিবর্তন ঘটবে। মিথ্যুককে সত্যবাদী বলা হবে, সত্যবাদীকে -মিথ্যুক বলে অবহেলা করা হবে। ঘাতককে বিশ্বস্ত আর বিশ্বস্তকে ঘাতক মনে করা হবে। জ্ঞানীদের মুখ বন্ধ করে -মূর্খরা সমাজ নিয়ে কথা বলবে। ইমাম শা’বী রহ. বলেন- “কেয়ামতের পূর্বমুহূর্তে প্রকৃত জ্ঞান হয়ে যাবে মূর্খতা, আর মূর্খতা হয়ে যাবে প্রকৃত জ্ঞান।” এভাবেই দৃশ্যপট পাল্টে যাবে।-” আব্দুল্লাহ বিন আমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেন- “কেয়ামত ঘনিয়ে আসার অন্যতম নিদর্শন হচ্ছে, উৎকৃষ্টদের অবহেলা করা হবে এবং নিকৃষ্টদের মর্যাদা দেয়া হবে।-” (মুস্তাদরাকে হাকেম)
পর্বঃ৩
স্বল্প কাপড় পরিহিত নগ্ন মহিলাদের আত্মপ্রকাশ
কেয়ামত ঘনিয়ে আসার অন্যতম একটি নিদর্শন হচ্ছে, বেহায়াপনা ও বেলেল্লাপনার ছড়াছড়ি। রাস্তাঘাটে বের হলেই আজকাল নগ্নপ্রায় মহিলাদের অবাধ চলাফেরা প্রত্যক্ষ করা যায়। দেহের অনেকাংশ-ই খোলা থাকে -এমন সংকীর্ণ বস্ত্র পরে তারা পুরুষদের সামনে বেহায়ার মত চলাফেরা করে। বাহ্যত তারা বস্ত্রবাহী হলেও ফেতনা ছড়ানো এবং দেহের বিভিন্ন হটাঙ্গ প্রদর্শনের ফলে তারা নগ্ন। আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সা. বলেছেন- “দুই প্রকার জাহান্নামী সম্প্রদায় এখনো আমি দেখিনিঃ ১) ষাঁঢ়ের লেজ সদৃশ চাবুক দিয়ে মানুষকে প্রহারকারী অত্যাচারী সম্প্রদায়। ২) আবেদনময়ী বস্ত্রবাহী নগ্ন-নারী সম্প্রদায়। আবেদন সৃষ্টি করতে তাদের মাথাগুলো একপাশে ঝুকিয়ে দেবে। তাদের মাথাগুলো উটের কুঁজের মত উঁচু দেখাবে। এ দু’টি দলের কখনো জান্নাতে প্রবেশ তো দূরের কথা; জান্নাতের সুঘ্রাণও কপালে জুটবে না। অথচ জান্নাতের সুঘ্রাণ তো এত….এত…. দূর থেকেই অনুভব করা যায়।-” (মুসলিম)
পর্ব-৪
সুউচ্চ বাড়ীঘর নির্মাণে নগ্নপদ নগ্নদেহ আরব্য রাখালদের প্রতিযোগিতা
নবী করীম সা. থেকে বর্ণিত কেয়ামতের ঘটিত নিদর্শনাবলীর অন্যতম হচ্ছে নগ্নপদ নগ্নদেহ রাখাল (আরব)দের বাড়ীঘর সুউচ্চ করণ প্রতিযোগিতা। কে কার চেয়ে উচু করে বিল্ডিং নির্মাণ করতে পারে.. কে কার চেয়ে বেশি ডিজাইন/ষ্টাইল করে বাংলো বানাতে পারে..। অথচ এইতো কিছুদিন পূর্বেই তারা ছিল মেষপালের রাখাল। গায়ে ছিল না বস্ত্র, পায়ে ছিল না জুতো।
উমর রা. থেকে বর্ণিত হাদিসে -ইসলাম, ঈমান ও ইহসান সংক্রান্ত আলোচনার পর নবী করীম সা. কেয়ামতের নিদর্শন বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন- “দাসীর গর্ভ থেকে মনিবের জন্ম হবে এবং নগ্নপদ নগ্নদেহ রাখালদের -সুউচ্চ বাড়ীঘর নির্মাণে প্রতিযোগিতায় মত্ত দেখবে।-” (মুসলিম)
অপর হাদিসে- “দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত অভাবী লোকদেরকে নেতৃত্বের পদে দেখতে পেলে সেটাই হবে কেয়ামতের নিদর্শন। দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত, অভাবী, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ রাখাল বলতে আপনি কাদের বুঝাচ্ছেন? প্রশ্নের উত্তরে নবীজী বলেন- আরব জাতি।-” (মুসনাদে আহমদ)
মানুষের উপকার ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে কল-কারখানা, কোম্পানী, টাওয়ার বা কোন বিল্ডিং উচু করে নির্মাণে দুষের কিছু নেই। তবে যদি তা পরস্পর অহংকার প্রকাশ, বা বহির্বিশ্বের সামনে দেশীয় ভাবমূর্তি উজ্জল করার উদ্দেশ্যে করা হয়, তবে অবশ্যই তা বৈধতার গণ্ডিতে পড়বে না।
হাদিসে বাড়ীঘর উঁচু বলতে উপরের দিকে বিল্ডিংয়ের স্তর বা তলা বৃদ্ধি করা, নিত্য নতুন কারুকার্যে সুশোভিত করা, মাত্র এক/দুই জনের জন্য বিশাল বাংলো নির্মাণ করে আসবাবপত্র বৃদ্ধি করা ইত্যাদি উদ্দেশ্য।
এ সব কিছুই ধন সম্পদ ও বিলাসিতার বর্তমান জমানায় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়িত হয়েছে।
হাদিসে উদ্দেশ্য হচ্ছে, পাহাড় পর্বত এবং সুদূর মরু প্রান্তরের রাখালেরা ছাগলের রাখালি ছেড়ে উঁচু উঁচু টাওয়ার নির্মাণে মত্ত হয়ে উঠবে। সকলেই চাইবে আমার-টা সবার চেয়ে উঁচুতে থাকুক!
বর্তমান আরব দেশগুলোতে এটা ব্যাপক মহামারীর আকার ধারণ করেছে। প্রত্যেকটি দেশ-ই চাইছে, বিশ্বের সবচে’ দীর্ঘতম টাওয়ারটি তার দেশে হোক! এর জন্য যত টাকা দরকার হয়, খরচ করতে রাজী।
সম্প্রতি ১৬০ তলা বিশিষ্ট বিশ্বের সর্ববৃহৎ -“বুরজ আল-খলীফা-” টাওয়ারটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই-তে অবস্থিত। এদিকে সৌদি সরকার বিশ্বের সর্ববৃহৎ ৩০০ তলা বিশিষ্ট টাওয়ার নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে ইতিমধ্যেই নির্মাণ কাজ শুরু করে দিয়েছ
Please follow and like us: