কুফফাদের শান্তিমিশনঃএকটি মরিচিকা

আজ থেকে ঠিক ১৭ বছর ১ মাস ৫ দিন আগে, ৭ অক্টোবর ২০০১ সালে, আমেরিকান ন্যাটো বাহিনী ভুমি এবং আকাশপথের সকল সীমা লংঘন করে আফগানিস্তানে অন্যায় ভাবে আক্রমন করে।
 
দৃশ্যত, এই আক্রমণটি 9/11 এর ঘটনার মিথ্যা প্রেক্ষাপটে শুরু হয়েছিল, যার সাথে না ছিল আফগানদের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা, না তারা এটি জানত, আর না আমেরিকানরাও কোন সুনির্দিষ্ট প্রমান উপস্থাপন করেছিল যা তাদের এই অবৈধ আক্রমণের জন্য সুবুদ্ধিপূর্ণ এবং যৌক্তিক ভিত্তি সরবরাহ করে হালাল করতে পারে ।
 
সেই সময়ে, দেশেটির স্থিতিশীল ইসলামী ব্যবস্থা প্রায় 95% বলবত ছিল, যা গোষ্ঠীগত অরাজকতা এবং অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের থেকে কেবলমাত্র শান্তি ও স্থায়িত্ব পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মুক্ত হয়েছিল।
 
তাদের এই নিষ্টুর ও অবৈধ আক্রমণের বৈধতা এবং নিপীড়িত ও নিরপরাধ আফগান জনগণের বিরুদ্ধে তাদের কাজের ভবিষ্যত জবাবদিহিতা থেকে মুক্তি পাওয়ার (ধোকা দেওয়ার) জন্য কুফফারা কিছু নিরপেক্ষ নীতিমালা/লক্ষ্য নির্ধারন করে প্রচার করে। এবং ববির্বিশ্বকে তারা এটা বোঝাতে (ধোকা দিতে) থাকে।
 
১। আফগানিস্তানকে সকল দিক থেকে স্থিতিশীল করা হবে।
২। মাদক নির্মূল করা হবে।
৩। আফগানদের পছন্দমত একটি সরকার ব্যবস্থা গঠন করা হবে।
৪। শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা পুনরায় বলবত করা হবে।
 
আজকে প্রায় দুই দশক পার হয়ে গেল। আফগানিস্তানে আজও তাদের সেই তথাকথিত শান্তি, স্থিতিশীলতা আর স্বাভাবিক জীবন যেন ডুমুরের ফুল।
 
– আমেরিকার অবৈধ আগ্রাসনের আগে, ইসলামিক আমীর দ্বারা মাদকদ্রব্যগুলি কমিয়ে আনা হয়েছিল, কিন্তু আমেরিকান সৈন্যদের আবাদের ফলে এখন এটি আবার বিশ্ব রেকর্ড অতিক্রম করেছে।
 
– আফগানিস্তানের বর্তমান সরকারের কথা আর বলার অপেক্ষা রাখেনা। এটি সবচেয়ে দুর্নীতিবাজ, অসৎ এবং আফগানিস্তানে তাদের সামরিক জেট ও ট্যাঙ্কের দ্বারা অরাজকতা ও বিশৃঙ্খলার পূর্ণ একটি ব্যবস্থা।
 
– শান্তি ও স্থিতিশীলতার বিষয়ে বলতে গেলে, জরিপ এবং রিপোর্ট অনুযায়ী, গত এক বছরে 40 হাজারেরও বেশি বেসামরিক লোক মারা গেছে এবং আহত হয়েছে। খোদ কুফফাদেরই সংগঠন UNMA (United Nations Assistance Mission in Afghanistan) ঘোষণা করেছে যে, বেসামরিক লোকসান ও হতাহতের সংখ্যা 52% বৃদ্ধি পেয়েছে। কাবুলের সরকারের তথাকথিত প্রতিরক্ষামন্ত্রী বাহরামী নিশ্চিত করেছেন যে, মাত্র এক মাসে 1300 জনের প্রাণহানি ও আহত হয়।
 
– হত্যা, নির্যাতন, লুটপাট, নিরাপত্তাহীনতা এবং জনসাধারণের বিশৃঙ্খলা ছাড়াও জাতিয়তাবাদকে উদ্দীপিত করে আমেরিকান হায়েনাদের দ্বারা এখানে আরও অনেক সামাজিক অধঃপত ও নৈতিক অবক্ষয় হয়েছে । তরুণরা আজ পশ্চিমা কুফুরী আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে তাদের নীতি নৈতিকতা বিবর্জিত। ‘নারীর অধিকার’ বুলির আড়ালে নারীর জীবন বিপজ্জনকভাবে বিপন্ন। নৈতিক স্থলনের পাশাপাশি যুবকদেরকে কৌশলে মাদকাসক্ত বানানো হয়েছে।
 
– বেসামরিক বাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, ক্লিনিক এবং অন্যান্য পাব্লিক প্লেসে নির্বিচারে বোমা হামলা একটি রুটিন হয়ে উঠেছে।
 
ধর্মপ্রান আফগান জনগন ইসলামী আমীরের দক্ষ, সৎ এবং আন্তরিক নেতৃত্বের অধীনে তাদের বৈধ সংগ্রামকে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত করবে যতক্ষণ না আক্রমণকারীরা পূর্ববর্তীদের মতই তাদের স্বদেশ থেকে বহিষ্কৃত হয়।
 
ইনশাআল্লাহ ! মহান আল্লাহর জন্য এটা কঠিন না।
Please follow and like us: